ফুঁসছে তিস্তা! ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কায় স্কুল ছুটির নির্দেশ, মেখলিগঞ্জে নামল বিপর্যয় মোকাবিলা দফতর
নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি, ০৪ অক্টোবর: ফুঁসছে তিস্তা, জলস্ফীতির জেরে বেড়েই চলছে দুঃশ্চিন্তা। বিপদের আশঙ্কায় শুরু চূড়ান্ত প্রস্তুতি। মেখলিগঞ্জে নামল বিপর্যয় মোকাবিলা দফতর। অপরদিকে জলপাইগুড়ি জেলার সমস্ত স্কুলগুলিকে ছুটি দেওয়ার নির্দেশ দিলেন জেলাশাসক শ্যামা পারভিন।
জানা যাচ্ছে, পাহাড় থেকে বিপুল পরিমাণ জল নামছে জলপাইগুড়িতে। দুপুর ২টো নাগাদ দোমহনি তিস্তা বিপদসীমার উপর দিয়ে বইতে পারে। ফলে জলপাইগুড়ি নিয়ে ক্রমশ তৈরি হচ্ছে উদ্বেগ। কারণ তিস্তায় জল বাড়ার জন্য সমস্ত বাঁধের লকগেট খুলে দেওয়া হয়েছে, যার কারণে হুড়মুড়িয়ে জল নেমে আসছে জলপাইগুড়িতে।
অপরদিকে, গজোলডোবার জলাধারে জল ছাড়ার পরিমাণ ক্রমশ বাড়ানো হয়েছে। ফলে দুপুর দুটোর পর দোমহনি-মেখলিগঞ্জ ও বাংলাদেশের একাংশের অসংরক্ষিত কিছুস্থান ভেসে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। মেখলিগঞ্জ সহ ওই এলাকার বাসিন্দাদের অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজ শুরু করেছেন বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের কর্মীরা।
উল্লেখ্য, উত্তর সিকিমের চুংথাংয়ে দক্ষিণ লোনাক হ্রদের বাঁধ ভাঙায় তিস্তায় জলস্তর অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। স্বাভাবিকের থেকে ৩০-৩৫ ফুট ওপর দিয়ে বইতে পারে তিস্তার জল। জল ধরে রাখতে না পেরে তিস্তা ব্যারেজ থেকে জল ছাড়া হয়েছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছিল, দুপুর ১২.৩০টা থেকে নদীতে জল আরও বাড়বে।
কোচবিহার জেলার হলদিবাড়ি প্রশাসনের পক্ষ থেকে মঙ্গলবার গভীর রাত থেকে মাইক যোগে তিস্তার বাঁধ সংলগ্ন এলাকার মানুষজনকে সতর্ক করা হয়েছে। বুধবার সকাল থেকেই হলদিবাড়ির বিডিও, জয়েন্ট বিডিও, হলদিবাড়ি থানার আইসি ঘটনাস্থলে উপস্থিত রয়েছেন। নদী সংলগ্ন এলাকার মানুষজনকে উদ্ধার করে সুরক্ষিত জায়গায় নিয়ে আসা হয়েছে।
অন্যদিকে, মেখলিগঞ্জেও তিস্তায় জলস্তর বৃদ্ধি পেয়েছে। অসংরক্ষিত এলাকায় জারি হয়েছে হলুদ সতর্কতা। জল আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা। মেখলিগঞ্জের তিস্তার ফকতের চর, ৭২ নিজতরফ চরে উদ্ধারকাজ শুরু করেছে প্রশাসন।
No comments:
Post a Comment