বাংলায় ছাব্বিশের ভোট করাবেন, নতুন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার পদে দায়িত্ব নিলেন জ্ঞানেশ - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Wednesday, February 19, 2025

বাংলায় ছাব্বিশের ভোট করাবেন, নতুন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার পদে দায়িত্ব নিলেন জ্ঞানেশ


প্রেসকার্ড নিউজ ন্যাশনাল ডেস্ক, ১৯ ফেব্রুয়ারি: ১৯৮৮ ব্যাচের আইএএস অফিসার জ্ঞানেশ কুমারকে ভারতের ২৬ তম প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টা ২০ মিনিটে সিইসি হিসেবে দায়িত্ব নেন জ্ঞানেশ। নতুন আইনে জ্ঞানেশই প্রথম সিইসি যিনি নিয়োগ পেয়েছেন। জ্ঞানেশের মেয়াদ ২৬ জানুয়ারি, ২০২৯ পর্যন্ত। জ্ঞানেশের ৪ বছরের মেয়াদে, ২০টি রাজ্য এবং ১টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে (পুদুচেরি) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। প্রসঙ্গত, বর্তমান সিইসি রাজীব কুমার মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) অবসর নিয়েছেন।


এদিন দায়িত্ব গ্রহণের পর জ্ঞানেশ কুমার বলেন, 'জাতি গঠনের প্রথম পদক্ষেপ হল ভোট। অতএব, ভারতের প্রতিটি নাগরিক যিনি ১৮ বছর বয়স পূর্ণ করেছেন তাদের অবশ্যই ভোটার হতে হবে এবং অবশ্যই ভোট দিতে হবে। ভারতের সংবিধান, নির্বাচনী আইন, বিধি ও তাতে জারি নির্দেশ অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশন ভোটারদের সাথে ছিল, আছে এবং থাকবে।' 



জ্ঞানেশ কুমারের জন্ম ২৭ জানুয়ারি ১৯৬৪ সালে। জ্ঞানেশ কুমার ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (আইআইটি), কানপুর থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বি.টেক করেছেন। পড়াশোনা শেষ করার পর, তিনি ICFAI-তে বিজনেস ফাইন্যান্স এবং HIID, হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি, ইউএসএ-তে এনভায়রনমেন্টাল ইকোনমিক্স অধ্যয়ন করেন। জ্ঞানেশ কুমার একজন কেরালা ক্যাডার এবং ১৯৮৮ ব্যাচের আইএএস। তিনি কেরালা এসসি-এসটি উন্নয়ন নিগমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন। নির্বাচন কমিশনার হওয়ার আগে তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অতিরিক্ত সচিব ছিলেন। সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ছিলেন। ইউপিএ সরকারের আমলে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের পদে ছিলেন।


জ্ঞানেশ জম্মু-কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বাতিল এবং রাজ্যকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল করার জন্য বিলের খসড়া তৈরি করেছিলেন। এ ছাড়া তিন তালাক বাতিল সংক্রান্ত খসড়া কমিটিতেও জ্ঞানেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। জ্ঞানেশের আমলে তামিলনাড়ু, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ, আসাম এবং ১টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল (পুদুচেরি) সহ ২০টি রাজ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বিহারে প্রথমে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। মিজোরামে হবে শেষ নির্বাচন।


উল্লেখ্য, সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন বৈঠকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) হিসাবে জ্ঞানেশ কুমারের নাম অনুমোদন করা হয়েছিল। আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী সার্চ কমিটি বাছাই কমিটির কাছে ৫ জনের নাম জমা দেয়। এর মধ্যে একজনকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে বেছে নেওয়ার কথা ছিল। ঐতিহ্যের ভিত্তিতে সিইসি পদে সবচেয়ে বরিষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশের নাম প্রস্তাব করে কমিটি। এরপর নতুন সিইসি নির্বাচিত হন জ্ঞানেশ।  


সেদিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীও। বৈঠকে, রাহুল গান্ধী বাছাই প্রক্রিয়া বিলম্বিত করা সহ কয়েকটি বিষয়ে তাঁর মতামত উপস্থাপন করেছিলেন, তবে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে তাঁর আপত্তি প্রত্যাখ্যান করা হয়। 


প্রধান নির্বাচন কমিশনারের মেয়াদ ছয় বছর হলেও অনেক সময় অবসরের নির্ধারিত বয়স ৬৫ বছর পূর্ণ করে পদ ছাড়তে হয়। জ্ঞানেশ কুমার হলেন প্রথম প্রধান নির্বাচন কমিশনার যাঁকে নতুন আইনে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর আগে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক সিইসিদের নিয়োগ দেওয়া হতো। সাধারণত, বর্তমান সিইসির উত্তরসূরি হিসেবে সবচেয়ে সিনিয়র নির্বাচন কমিশনারকে বেছে নেওয়া হয়।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad