ওয়ার্ল্ড ডেস্ক, ২৫ মার্চ ২০২৫, ১৩:৩০:০০: বাংলাদেশে আবারও পালাবদলের গুঞ্জন। প্রতিবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে যে, মোহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারকে উৎখাত করে শাসনের লাগাম নিতে পারে সেনা। সোমবার সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামান শীর্ষ সামরিক আধিকারিকদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেছেন বলেও চর্চা রয়েছে। যদিও পালাবদল সংক্রান্ত প্রতিবেদন ও গুজব প্রত্যাখ্যান করেছেন সেনাপ্রধান। ঢাকা ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে জরুরি অবস্থা জারির জল্পনা নাকচ করে দিয়েছেন সেনাপ্রধান জামান। তিনি ধৈর্য্য ধরে রাখার আবেদন জানিয়েছেন।
সেনাপ্রধান মিথ্যা তথ্য দেওয়ার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এবং আনুগত্য ও নিষ্ঠার সাথে দেশের সেবা করার জন্য সামরিক কর্মীদের প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, গুজবে কান দেওয়া উচিৎ নয়। সোমবার ঢাকা সেনানিবাসে আধিকারিকদের উদ্দেশ্যে এসব কথা বলেন সেনাপ্রধান। বিশেষ বিষয় হল এই বৈঠকে সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্তারা অংশ নেন। বৈঠকে যারা আসতে পারেননি তারা ভার্চুয়াল ভাবে অংশ নেন।
সেনাপ্রধানের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে যখন বাংলাদেশে আবারও অভ্যুত্থানের কথা চলছে। একাধিক প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে জরুরি অবস্থা বা সামরিক আইন জারি হতে পারে। সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, সেনাপ্রধান আইনশৃঙ্খলাসহ অনেক বিষয়ে তাঁর মতামত ব্যক্ত করেন। সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে দাবী করা হয়েছে, সেনাবাহিনী রাজধানী ঢাকায় বিপুল সংখ্যক সাঁজোয়া যান এবং বিপুল সংখ্যক সেনা মোতায়েন করেছে। এই অগ্রগতি এমন এক সময়ে, যখন বাংলাদেশের সেনা এবং হাসিনা-বিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী সংগঠন স্টুডেন্ট এগেইনস্ট ডিসক্রিমিনেশনের মধ্যে সম্পর্কে ফাটললের খবর সামনে আসছে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ৫ আগস্ট বাংলাদেশে অভ্যুত্থান হয়েছিল। ঢাকায় প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে চলে রীতিমতো তাণ্ডব। এই উন্মত্ত জনতার হাত থেকে বাঁচতে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে ভারতে পালিয়ে আসেন শেখ হাসিনা। এর পর বাংলাদেশে হিন্দু-সহ সংখ্যালঘুদের ওপর একের পর এক সহিংসতা ও নৃশংসতার খবর সামনে আসে। মন্দির ভেঙে ফেলা হয়, তাদের বাড়িতে হামলা চালানো হয়। যাঁরা আন্দোলন শুরু করেছিলেন তাঁরা হাসিনাকে 'স্বৈরশাসক' বলে অভিহিত করেন এবং দেশের সমস্যার জন্য তাঁকে দায়ী করেন।
No comments:
Post a Comment