বিনোদন ডেস্ক, ২৯ মার্চ ২০২৫, ১০:৩০:০০: গরমকাল শুরু হলেই ঘরে ঘরে টক দইয়ের চাহিদা বেড়ে যায়। বাজারে যে টক দই পাওয়া যায় তাতে কিছুটা মিষ্টি থাকে এবং বেশ ঘন, যা অনেকেরই পছন্দ হয়। কিন্তু অনেকে বাড়িতে টক দই তৈরি করলেও বাজারের মতো গাঢ় ও স্বাদ পান। এর পেছনে কারণ হতে পারে দই বানানোর সময় কিছু ছোটখাটো ভুল। আপনিও যদি বাড়িতে পারফেক্ট টক দই তৈরি করতে চান, তাহলে কিছু বিষয় মাথায় রাখুন। এটি বাজারের মত দই তৈরিতে অনেক সাহায্য করবে। ৭টি সহজ টিপস অনুসরণ করে বাজারের মতো টক দই ঘরেই তৈরি করে নিতে পারবেন।
কীভাবে বাড়িতে দই তৈরি করবেন?
সঠিক দুধ নির্বাচন করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ
বাজারের মতো ঘন দই তৈরি করতে হলে প্রথমেই সঠিক দুধ বেছে নেওয়া জরুরি। পূর্ণ চর্বিযুক্ত দুধ (৩% এর বেশি চর্বি) সবচেয়ে ভালো, কারণ এটি দইকে ক্রিমিয়ার করে। গরুর দুধের তুলনায় মহিষের দুধ বেশি ঘন, যা ভালো দইও তৈরি করে। আপনি যদি প্যাকেটজাত দুধ ব্যবহার করেন তবে টোনড বা ডাবল-টোনড দুধের পরিবর্তে ফুল-ক্রিম দুধ ব্যবহার করুন।
সঠিক তাপমাত্রায় দুধ গরম করুন
দুধকে ভালোভাবে ফুটিয়ে নিন যাতে এতে উপস্থিত যেকোনও ব্যাকটেরিয়া নষ্ট হয়ে যায় এবং ঠিকমতো দই জমতে পারে। দুধ ফুটে উঠলে সামান্য ঠাণ্ডা করুন। সঠিক তাপমাত্রা ৪০-৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, অর্থাৎ, দুধ উষ্ণ হওয়া উচিৎ। যদি দুধ খুব গরম হয়, দই বেশি টক হয়ে যেতে পারে এবং যদি এটি ঠাণ্ডা হয় তবে এটি সঠিকভাবে নাও জমতে পারে।
মানসম্পন্ন টক বা দইয়ের সাজ ব্যবহার করুন (স্টার্টার)
দইয়ের সাজ অর্থাৎ স্টার্টার দই সেট করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বাজারের মতো ঘন দই পেতে সর্বদা তাজা, ভালো এবং ক্রিমি দই ব্যবহার করুন। আপনি যদি প্রতিদিন দই তৈরি করেন, তবে প্রতিবারই আগের তৈরি একই দই নিন। এক লিটার দুধের জন্য ১-২ চামচ সাজ যথেষ্ট।
সঠিকভাবে সাজ মিশ্রিত করুন
দুধ হালকা গরম হয়ে এলে তাতে টক দইয়ের সাজ দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিন। মনে রাখবেন, এটি ধীরে ধীরে যোগ করুন, যাতে দুধের তাপমাত্রা পরিবর্তন না হয় এবং ব্যাকটেরিয়া সঠিকভাবে সক্রিয় হতে পারে। এজন্য বড় চামচ দিয়ে দুধে আলতো করে সাজ মিশিয়ে নাড়া না দিয়ে ছেড়ে দিন।
দই জমানোর জন্য সঠিক তাপমাত্রা বজায় রাখুন
দই জমানোর জন্য সঠিক তাপমাত্রা ৩৫-৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস হওয়া উচিৎ। গ্রীষ্মে দই দ্রুত সেট হয়, তবে শীতকালে এটি সঠিক তাপমাত্রায় রাখা প্রয়োজন। ঠাণ্ডা আবহাওয়ায়, দই কোনও উষ্ণ জায়গায় রাখুন বা একটি মোটা কাপড় দিয়ে পাত্রটি মুড়িয়ে রাখুন। আলো জ্বালিয়ে ওভেন বা মাইক্রোওয়েভেও দই জমাতে পারেন।
সঠিক সময় দিন এবং হস্তক্ষেপ করবেন না
দই জমতে ৬-৮ ঘন্টা সময় লাগে, তবে এর মধ্যে এটা নাড়াবেন না। দই বার বার চেক করলে এর টেক্সচার ঠিক হবে না। দই জমে গেলে কয়েক ঘন্টা ফ্রিজে রাখুন, যাতে এর টেক্সচার ভালো হয়।
ক্রিমি টেক্সচারের জন্য অতিরিক্ত টিপস
আপনি যদি অতিরিক্ত ক্রিমি দই চান তবে দুধ ফুটানোর সময় আপনি এতে ২ চামচ দুধের গুঁড়ো বা এক চামচ ক্রিম যোগ করতে পারেন। এতে দই আরও মসৃণ ও ঘন হবে। এ ছাড়া তামার বা মাটির পাত্রে দই সংরক্ষণ করলেও এর পুরুত্ব ও স্বাদ বৃদ্ধি পায়।
No comments:
Post a Comment