'আমেরিকার সাথে পুরনো সম্পর্ক শেষ', কেন এমন বক্তব্য দিলেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী? - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Friday, March 28, 2025

'আমেরিকার সাথে পুরনো সম্পর্ক শেষ', কেন এমন বক্তব্য দিলেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী?

6a18332831d68c0873466f5b81cfabcc1743136009144268_original


প্রেসকার্ড নিউজ ওয়ার্ল্ড ডেস্ক, ২৮ মার্চ ২০২৫, ১১:২৬:০১ : কানাডা এবং আমেরিকার মধ্যে কয়েক দশকের পুরনো সম্পর্ক সর্বদাই একটি উদাহরণ। গভীর অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা, সামরিক সহায়তা এবং বাণিজ্য চুক্তি দুটি দেশকে শক্তিশালী অংশীদার করে তুলেছিল, কিন্তু কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির বিবৃতি এখন এই পুরনো সম্পর্ক নিয়ে একটি বড় প্রশ্ন উত্থাপন করছে। সে বলল, 'এখন সেই পুরনো সম্পর্ক শেষ।' 



প্রকৃতপক্ষে, আমেরিকায় যানবাহন আমদানির উপর রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণার পর এই বিবৃতি এসেছে। এই সিদ্ধান্ত কানাডার অটো শিল্পের জন্য অত্যন্ত বিধ্বংসী হতে পারে, কারণ প্রায় ৫০০,০০০ মানুষ এই শিল্পের সাথে যুক্ত। ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে "অন্যায়" আখ্যা দিয়ে কার্নি বলেন যে এটি দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বাণিজ্য চুক্তির লঙ্ঘন। 



কার্নি আরও সতর্ক করে বলেন যে এই পরিবর্তনগুলি কেবল বাণিজ্য চুক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। তিনি বলেন, 'এখন আর সম্পর্ক ফিরে আসতে পারে না।' তার বক্তব্য থেকে বোঝা যায় যে কানাডা ও আমেরিকার সম্পর্কের মধ্যে যে আস্থা ও সহযোগিতা ছিল, ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের পর তা এখন শেষ। কার্নি বলেন যে আমেরিকার আরোপিত শুল্ক কেবল একটি বাণিজ্য সমস্যা নয় বরং দুই দেশের গভীর সম্পর্কের উপর আক্রমণ। 



তবে, কার্নি স্পষ্ট করেছেন যে কানাডা এই শুল্কের বিরুদ্ধে লড়াই করবে। তিনি বলেন, 'এই শুল্ক মোকাবেলায় আমরা কার্যকর বাণিজ্য ব্যবস্থা গ্রহণ করব, যার প্রভাব আমেরিকার উপর বেশি এবং কানাডার উপর কম পড়বে।'  এর মানে হল কানাডা তার সর্বশক্তি দিয়ে আমেরিকার এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করবে। কার্নি আরও বলেন যে তার কৌশল নিরাপত্তা, বাণিজ্য এবং অর্থনীতি সম্পর্কিত বিষয়গুলিতে আরও জোরালোভাবে কাজ করবে।



মার্ক কার্নি আরও বলেন যে তিনি ট্রাম্পের সাথে কথা বলার জন্য হোয়াইট হাউসের সাথে যোগাযোগ করেছেন, তবে যেকোনো বাণিজ্য আলোচনার আগে তিনি চান ট্রাম্প কানাডার প্রতি 'সম্মান' দেখান। তার বার্তা স্পষ্ট ছিল যে কানাডার সার্বভৌমত্বের সাথে কোনও আপস করা হবে না। 



এটি কানাডার জন্য একটি বড় পদক্ষেপ হতে পারে, কারণ এটি এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে তার পুরনো সম্পর্ককে নতুন দিকে নিয়ে যেতে চায়। তবে, ট্রাম্প প্রশাসন এই পরিবর্তনটি বুঝতে পারবে কিনা এবং ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে নতুন ধরণের অংশীদারিত্ব শুরু হবে কিনা তা এখনও দেখার বিষয়।



এখানে প্রশ্ন হল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডার সম্পর্কের এই পরিবর্তন কি দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতির কারণ হবে, নাকি এটি দুই দেশের জন্য একটি নতুন সূচনা করবে? আগামী দিনে এই পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে, তবে বর্তমানে এটা নিশ্চিত যে পুরনো সম্পর্কগুলি এখন অতীতের বিষয়।


No comments:

Post a Comment

Post Top Ad