লাইফস্টাইল ডেস্ক, ২০ মার্চ ২০২৫, ১১:৩০:০০: স্থূলতা কোনও নতুন রোগ নয় বরং এটি একটি লাইফস্টাইল ডিজিজ। আপনার লাইফস্টাইল যদি সঠিক হয় তবে তা কখনই ঘটবে না এবং যদি আপনার জীবনধারা অলস বা খারাপ হয় তবে তা শীঘ্রই আপনাকে ছাপিয়ে যাবে। যুবদের পাশাপাশি শিশুদের মধ্যে স্থূলতা বৃদ্ধি পিতামাতার জন্যও বড় উদ্বেগের বিষয়, কারণ ছোট বাচ্চাদেরও আজকাল ওজন বেশি।
ছোটবেলা থেকেই শিশুদের যদি সুষম ও স্বাস্থ্যকর খাবার দেওয়া হয় এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের কথা বলা হয়, তাহলে তাদের ওজন ঠিক থাকবে এবং তারাও সুস্থ থাকবে। আসুন জেনে নিই আপনার শিশুদের ওজন ঠিক রাখতে আপনাকে কী করতে হবে। এস্টার সিএমআই হাসপাতাল, ব্যাঙ্গালোরের শিশু মনোবিজ্ঞানী ও জীবন বিশেষজ্ঞ ডাঃ সুষমা গোপালন কিছু পদ্ধতি বলেছেন, যা প্রত্যেক পিতামাতার অবলম্বন করতে পারেন।
স্বাস্থ্যকর এবং সুষম খাদ্য দিন -
ডক্টর সুষমা বলেন, 'শিশুদের প্রচুর পরিমাণে শাকসবজি, ফলমূল ও শস্য খাওয়াতে হবে। এছাড়া তাদের পর্যাপ্ত পরিমাণ জল দিতে হবে। সর্বদা জোর দিন যে, শিশু পরিবারের সাথে একসাথে খাবার খায় এবং খাওয়ানোর সময় স্ক্রিন চালু হওয়া উচিৎ নয় যাতে সে খাওয়ার বিষয়ে সতর্ক থাকেন। শিশুকে খাবারের অংশ, খাবারের স্বাদ, টেক্সচার এবং পেট ভরা হলে শরীর যে সংকেত দেয়, তা বুঝতে দিন।
আজকাল অনেক বাবা-মা তাদের শিশুদের টিনজাত খাবার খেতে দেয়, যা ভুল। এগুলিতে প্রচুর পরিমাণে প্রিজারভেটিভ থাকে, যা শারীরিক সমস্যার কারণ হতে পারে। শিশুরা যখন জাঙ্ক ফুড চায়, তখন বাবা-মাকে প্রত্যাখ্যান করতে শেখা উচিৎ। স্ক্রিনে এবং খাবারের দোকানে অনেক লোভনীয় বিজ্ঞাপন রয়েছে, যা আপনার জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হতে পারে। কিন্তু আজকে এগুলো মোকাবেলা করতে শিখলে ভবিষ্যতে আর কোনও সমস্যা হবে না।
শারীরিক কার্যকলাপে মনোযোগ দিন
অনেক সময় দেখা যায় শিশু কোনও কিছুর জন্য পীড়াপীড়ি করলেই অভিভাবকরা মোবাইল ফোন হাতে তুলে দেন বা টিভি চালু করে দেন। এসব এড়িয়ে চলতে হবে। পরিবর্তে, শিশুকে শারীরিক কার্যকলাপের দিকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। এর মধ্যে দৌড়াদৌড়ি, জাম্পিং, সাইকেল চালানো, সাঁতার ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
স্ক্রিন টাইম কমানো এবং শারীরিক কার্যকলাপ বৃদ্ধি শিশুর শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। শিশুর বৃদ্ধির বয়স হলে তাকে মাটিতে বা বাড়িতে খেলতে বলুন। এতে তার মন ও স্বাস্থ্যের ওপর ভালো প্রভাব পড়বে।
ভালো অভ্যাস গড়ে তুলুন
স্ক্রিন টাইম সীমিত করা, সময়মতো ঘুমানো, সময়মতো খাওয়া, সময়মতো স্নান করা ইত্যাদি যে অভ্যাসগুলো আপনি শুরু থেকেই আপনার সন্তানের মধ্যে গড়ে তুলবেন তা ভবিষ্যতে খুবই উপকারী প্রমাণিত হবে। আপনার শিশু যদি এসব বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া না দেয়, তাহলে আপনি বিশেষজ্ঞের পরামর্শও নিতে পারেন।
No comments:
Post a Comment