লাইফস্টাইল ডেস্ক, ০৭ মার্চ ২০২৫, ০৭.৩০:০০: ফাল্গুন শুক্লা একাদশীকে কাশীতে রঙ্গভরী একাদশী বলা হয়। এই দিনে বাবা বিশ্বনাথকে বিশেষভাবে সাজানো হয় এবং কাশীতে হোলি উৎসব শুরু হয়। পৌরাণিক ঐতিহ্য অনুসারে, রঙ্গভরী একাদশীর দিন, মা পার্বতীর সাথে বিবাহের পর প্রথমবারের মতো ভগবান শিব তাঁর প্রিয় নগরী কাশীতে আসেন এবং তিনি মা পার্বতীকে আবীর নিবেদন করেছিলেন। এ বছর রঙ্গভরী একাদশীর উপবাস পালিত হবে ১০ মার্চ সোমবার।
রঙ্গভরী একাদশী তিথি
পঞ্চাং অনুসারে, ফাল্গুন শুক্লা একাদশী তিথি ৯ মার্চ রবিবার সকাল ৭:৪৫ টা থেকে ১০ মার্চ সোমবার সকাল ৭:৪৪ টা পর্যন্ত। ওড়িয়া তারিখ বিবেচনা করে, ১০ মার্চ রঙ্গভরী একাদশী উৎসব পালিত হবে।
রঙ্গভরী একাদশীর গুরুত্ব
রঙ নিয়ে খেলার প্রক্রিয়া বারাণসীতে শুরু হয় রঙ্গভরী একাদশী উৎসবের মাধ্যমে, যা টানা ছয় দিন চলতে থাকে। ব্রজে হোলির উৎসব শুরু হয় হোলাষ্টক থেকে। যেখানে বারাণসীতে এটি শুরু হয় রঙ্গভরী একাদশী থেকে। এই দিনে ভগবান শিবকে বিশেষ রঙ নিবেদন করলে অর্থ সংক্রান্ত সমস্ত ইচ্ছা পূরণ করা যায়।
ব্রত-পূজা বিধি
রঙ্গভরী একাদশীর দিন সকালে ঘুম থেকে উঠে স্নান সেরে নিন। উপবাসের সংকল্প নিন এবং তারপর ভগবান বিষ্ণুর পূজা করুন। ভগবান বিষ্ণুকে হলুদ ফুল অর্পণ করুন। ঘিতে হলুদ মিশিয়ে ভগবান বিষ্ণুর প্রদীপ জ্বালান। পিপল বা অশ্বত্থ পাতায় দুধ ও জাফরানের তৈরি মিষ্টি রেখে ভগবানকে নিবেদন করুন। একাদশীর সন্ধ্যায় তুলসী গাছের সামনে একটি প্রদীপ জ্বালিয়ে ভগবান বিষ্ণুকে কলা নিবেদন করুন এবং গরীবদের মধ্যে কলা বিতরণ করুন।
আমলকি্য সঙ্গে রঙ্গভরী একাদশীর সম্পর্ক
এই একাদশীতে আমলকি গাছের পুজো করা হয়। এছাড়াও, আমলকি একটি বিশেষ উপায়ে ব্যবহার করা হয়। এই দিনে আমলকি দান করলে গরু দান করার ফল পাওয়া যায়। তাই আমলকি দান করুন। এই দিনে আমলকি খাওয়াও খুব ভালো। এছাড়া কনক ধারা স্তোত্র পাঠ করুন। এতে সব ধরণের দারিদ্র্য দূর হবে। সুস্বাস্থ্য ও সৌভাগ্য অর্জিত হয়।
আমলকি গাছের পূজা কীভাবে করবেন?
রঙ্গভরী একাদশীতে আমলকা গাছের পুজোর বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। সকালে আমলকি গাছে জল ঢালুন। গাছে ফুল, ধূপ, নৈবেদ্য অর্পণ করুন এবং গাছের কাছে একটি প্রদীপ জ্বালান। গাছটিকে ২৭ বার বা ৯ বার প্রদক্ষিণ করুন। সৌভাগ্য এবং সুস্বাস্থ্যের জন্য প্রার্থনা করুন। আমলকি গাছ লাগালে আরও ভালো হবে।
No comments:
Post a Comment