প্রেসকার্ড নিউজ বিনোদন ডেস্ক, ৩০ মার্চ ২০২৫, ১০:৩০:০১ : মিথ্যার ফিল্মি সংজ্ঞা নিশ্চয়ই অনেকবার শুনেছেন। কিছু আপনাকে কালো এবং সাদা সিনেমার যুগে ফিরিয়ে নিয়ে যায়, আবার কিছু আজকের ডিজিটাল যুগের। সময় বদলে যায়, কিন্তু মিথ্যা মিথ্যাই থেকে যায়। এটাও সত্যের মতো পরিবর্তিত হয় না। কিছু মিথ্যা সাদা, অর্থাৎ হালকা, আবার কিছু এত বড় যে তা বিশ্বকে নাড়া দেয়। কখনও কখনও আমরা অন্যদের অনুভূতি রক্ষা করার জন্য মিথ্যা বলি, এবং কখনও কখনও নিজেদেরকে শ্রেষ্ঠ দেখানোর জন্য।
কিন্তু প্রশ্ন হলো, একটি মিথ্যা কতটা লুকানো যায়? প্রাচীনকালে, মিথ্যা ধরার জন্য, মানুষ মুখের ভাব, নার্ভাসনেস বা ঘামের দিকে মনোযোগ দিত। তারপর পলিগ্রাফ মেশিন এলো, কিন্তু চতুর মন তাদেরও প্রতারণা করতে শিখে গেল। এখন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এক ধাপ এগিয়ে গেছে এবং এমন পদ্ধতি আবিষ্কার করেছে যার মাধ্যমে একজন মিথ্যাবাদী পালাতে পারে না। সে যত স্পষ্ট কথাই বলুক না কেন। চোখের পলকে মিথ্যা ধরার জন্য একটি নতুন সূত্র প্রস্তুত। বিস্তারিতভাবে এটি সম্পর্কে জানুন।
কিন্তু গবেষণা অনুসারে, একজন ব্যক্তি গড়ে দিনে একবার বা দুবার মিথ্যা বলে। ১৯৯৬ সালে ভার্জিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী বেলা ডিপাওলো এবং তার দল এটি ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন। এখন যদি এই গবেষণাটি আবার করা হয়, তাহলে সম্ভবত পরিসংখ্যান আরও বাড়বে, কারণ আজকের ডিজিটাল যুগে মিথ্যা ছড়ানো এবং লুকানো আগের চেয়ে সহজ হয়ে গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এখন এমন কিছু ঘটেছে যা মিথ্যাকে নতুন স্তরে নিয়ে গেছে। ডিপফেক প্রযুক্তির মতো। এর সাহায্যে এমন ভিডিও তৈরি করা যেতে পারে যা বাস্তবে ঘটেনি, কিন্তু এতটাই বাস্তব দেখায় যে যে কেউ প্রতারিত হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, কল্পনা করুন একটি ভিডিও যেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইলন মাস্কের পা স্পর্শ করছেন অথবা ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ তাকে চুল বেণী করতে শেখাচ্ছেন। এটা অদ্ভুত শোনাচ্ছে, কিন্তু এটা সম্ভব হয়ে উঠেছে।
আগে, মিথ্যা ধরার জন্য ঘাম, হৃদস্পন্দন এবং মানসিক চাপের মাত্রা পরিমাপ করা হত। পলিগ্রাফ পরীক্ষা, অর্থাৎ মিথ্যা শনাক্তকরণ যন্ত্র, এই নীতির উপর কাজ করেছিল। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে বিজ্ঞান আরও উন্নত পদ্ধতি আবিষ্কার করেছে।
১. মিথ্যা কথা কণ্ঠস্বর দ্বারা ধরা যেতে পারে: যখন একজন ব্যক্তি মিথ্যা বলেন, তখন তার কণ্ঠস্বরে সামান্য কম্পন হয় অথবা তার কথা বলার গতি পরিবর্তিত হয়। বিজ্ঞানীরা এই প্যাটার্নটি ব্যবহার করে অনুমান করেন যে একজন ব্যক্তি মিথ্যা বলছেন নাকি সত্য বলছেন।
২. মস্তিষ্কের তরঙ্গের অধ্যয়ন: আধুনিক স্নায়ুবিজ্ঞানীরা মিথ্যা ধরার জন্য মস্তিষ্কের কার্যকলাপ রেকর্ড করেন। যখন একজন ব্যক্তি সত্য বলে, তখন তার মস্তিষ্ক একটি বিশেষ উপায়ে সাড়া দেয়, কিন্তু মিথ্যা বলার সময়, আরও বেশি শক্তি ব্যয় হয় এবং বিভিন্ন অংশে কার্যকলাপ বৃদ্ধি পায়।
৩. চোখের মণির প্রসারণ: সাম্প্রতিক এক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা দেখেছেন যে, যখন একজন ব্যক্তি মিথ্যা বলেন, তখন তার মণির প্রসারণ ঘটে। ভ্যালেন্টিন ফাউচার এবং আঙ্কে হুকহফের পরিচালিত একটি গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে মিথ্যা বলার সময় চোখের মণি বেশি প্রসারিত হয় কারণ এই মানসিক প্রক্রিয়ার জন্য আরও বেশি প্রচেষ্টার প্রয়োজন হয়।
৪. বিদেশী ভাষায় মিথ্যা বলা কঠিন: আরেকটি আকর্ষণীয় গবেষণায়, বিজ্ঞানীরা মিথ্যা ধরার একটি নতুন উপায় আবিষ্কার করেছেন। কাউকে তার মাতৃভাষা ছাড়া অন্য ভাষায় মিথ্যা বলতে বলুন।
ইজরায়েলের নেগেভ বিশ্ববিদ্যালয় এবং শিকাগো, আমস্টারডাম, পম্পেউ-ফাব্রা (বার্সেলোনা) এবং কাতালোনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা দেখেছেন যে যখন মানুষ অন্য ভাষায় মিথ্যা বলে, তখন তাদের ধরা পড়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। কারণ বিদেশী ভাষায় মিথ্যা বলার জন্য আরও মানসিক প্রচেষ্টার প্রয়োজন হয়। এই সময়ে, ব্যক্তির দ্বিধা, চিন্তাভাবনা এবং প্রতিক্রিয়া পরিবর্তিত হয়, যার কারণে তার মিথ্যা প্রকাশ পায়।
প্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান মিথ্যা ধরার অনেক নতুন উপায় উদ্ভাবন করেছে, কিন্তু মানুষের মনও চতুর। যারা মিথ্যা বলে তারাও নতুন নতুন পদ্ধতি অবলম্বন করে যাতে ধরা না পড়ে। কিন্তু একটা বিষয় নিশ্চিত, সেটা ছোট সাদা মিথ্যা হোক বা বড় জালিয়াতির ষড়যন্ত্র, বিজ্ঞান তা ধরার জন্য প্রতিনিয়ত নতুন নতুন উপায় খুঁজে বের করছে।
No comments:
Post a Comment