লাইফস্টাইল ডেস্ক,০২ এপ্রিল ২০২৫, ১২:৩০:০০: তুলসী গাছকে সনাতন ধর্মে অত্যন্ত পবিত্র বলে মনে করা হয় এবং বেশিরভাগ বাড়িতেই এই গাছ লাগানো হয়। তুলসী গাছের পুজোও হয় নিয়মিত। আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞদের মতে, তুলসী গাছ শুধুমাত্র ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে নয়, স্বাস্থ্যের দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তুলসী পাতা ও বীজ ব্যবহার করলে অনেক শারীরিক সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। তুলসী গাছে প্রচুর ঔষধি গুণ রয়েছে এবং এটি পরিবেশকে বিশুদ্ধ রাখতে সাহায্য করে। তুলসী গাছ শুধু পরিবেশকেই বিশুদ্ধ করে না, অনেক রোগ প্রতিরোধেও কার্যকর প্রমাণিত হতে পারে।
তুলসী গাছকে আয়ুর্বেদে অমৃত হিসাবে বিবেচনা করা হয়। তুলসীর ঔষধিগুণ নিয়ে অনেক গবেষণা করা হয়েছে এবং এটা প্রমাণিত হয়েছে যে, এতে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টি-ভাইরাল এবং অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা স্বাস্থ্যকে নানাভাবে উপকার করে। ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অফ ফার্মাসিউটিক্যাল সায়েন্সে প্রকাশিত একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, তুলসী পাতায় ইউজেনল, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ফ্ল্যাভোনয়েড পাওয়া যায়, যা হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে পারে। এছাড়াও এটি স্ট্রেস কমাতে, রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে এবং হজমের উন্নতিতেও সহায়ক।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার জন্যও তুলসীকে খুবই উপকারী বলে মনে করা হয়। তুলসীতে উপস্থিত উপাদান শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। প্রতিদিন তুলসী পাতা খেলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী হয় এবং সর্দি-কাশির মতো সমস্যা প্রতিরোধ করে। তুলসী খাওয়া শরীরে কর্টিসল হরমোনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে, যা মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখে। অনেক গবেষণায় দেখা গেছে যে, তুলসী খাওয়া রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, যা ডায়াবেটিস রোগীদের স্বস্তি দেয়। তুলসীর রস ত্বকের সমস্যা দূর করে এবং চুল মজবুত করে।
আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞদের মতে, তুলসীর শুধু ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক গুরুত্বই নেই, বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকেও এটি একটি আশীর্বাদ বটে। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে ৪-৫টি তুলসী পাতা চিবিয়ে খান। তুলসী চা বানিয়ে পান করলে মানসিক চাপ কমে। তুলসীর ক্বাথ পরিবর্তনশীল ঋতুতে রোগ থেকে রক্ষা করতে সহায়ক। আপনি আপনার বাড়িতে একটি পাত্রে তুলসী গাছ লাগাতে পারেন এবং আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী এটি ব্যবহার করতে পারেন। তুলসীর ক্বাথও স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী বলে মনে করা হয়।
No comments:
Post a Comment