ন্যাশনাল ডেস্ক, ০১ এপ্রিল ২০১৫, ০৯:৫০:০০: আবারও ট্রেন দুর্ঘটনা, এবারে দুর্ঘটনার কবলে মালগাড়ি। দুই মালগাড়ির মুখোমুখি ধাক্কায় মৃত ৩। মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৩টার দিকে ঝাড়খণ্ডের সাহেবগঞ্জে এই ট্রেন দুর্ঘটনাটি ঘটে। এখানকার বারহাট এমজিআর লাইনে দুটি পণ্যবাহী ট্রেন একে অপরের সাথে ধাক্কা খায়। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় লোকো পাইলট-সহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এবং চার সিআইএসএফ জওয়ান আহত হয়েছেন। পণ্যবাহী ট্রেনগুলি একে অপরের সাথে ধাক্কা খায় এবং কয়লা থাকার কারণে এতে আগুন ধরে যায়। খবর পেয়েই অনেক ফায়ার ব্রিগেডের গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে এবং উদ্ধারকাজ শুরু করে।
পণ্যবাহী ট্রেনটি ঝাড়খণ্ডের গোড্ডার লালমাটিয়া থেকে পশ্চিমবঙ্গের ফারাক্কা এনটিপিসি যাচ্ছিল। সেই সময় সামনে দাঁড়িয়ে থাকা আরেকটি পণ্যবাহী ট্রেনের সঙ্গে ধাক্কা খায়।
সাহেবগঞ্জ সদর থেকে আসা ফায়ার ব্রিগেডের এক কর্মী রবি জানান, ভোর সাড়ে তিনটায় এ ঘটনা ঘটে। ট্র্যাকে একটা পণ্যবাহী ট্রেন দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় অপর দিক থেকে আসা পণ্যবাহী ট্রেনটি সেটিকে ধাক্কা দিলে ইঞ্জিন ও কয়লা বোঝাই বগিতে আগুন ধরে যায়। আগুন নেভানোর কাজ চলছে। একই সময়ে দুটি ইঞ্জিন লাইনচ্যুত হয়ে ইঞ্জিন সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ফায়ার ব্রিগেডের কর্মীরা জানিয়েছেন যে, ইঞ্জিনটিতে সাতজন ছিলেন, যাদের মধ্যে দুজন মারা গেছেন এবং চারজন আহত হয়েছেন। একজন শ্রমিক ইঞ্জিনে আটকা পড়লেও তাকে বের করার চেষ্টা চলছে। সবাইকে বারহাট সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। যেখানে আহতদের চিকিৎসা চলছে, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
এদিকে ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে রেল প্রশাসন। বারহাট থানার পুলিশও ঘটনাস্থলে পৌঁছে তথ্য সংগ্রহে ব্যস্ত। বর্তমানে রেললাইনে চলাচল বন্ধ রয়েছে। দুর্ঘটনার তদন্ত করছে রেল বিভাগ। জানার চেষ্টা চলছে কীভাবে দুটি ট্রেন একই ট্র্যাকে এল? দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। ত্রাণ ও উদ্ধার তৎপরতায় রেলওয়ের কর্মচারীদের সঙ্গে স্থানীয় লোকজন সাহায্য করেছেন।
উল্লেখ্য, এর আগেও এনটিপিসির এস রেল ট্র্যাকে একটি ঘটনা ঘটেছিল। সম্প্রতি কিছু অপরাধী একটি বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে রেলপথ উড়িয়ে দেয়, যার ফলে একটি কয়লা বোঝাই ট্রেন লাইনচ্যুত হয়েছে।
প্রসঙ্গত, একদিন আগেই দুর্ঘটনার কবলে পড়ে কামাখ্যা এক্সপ্রেস। ব্যাঙ্গালুরু থেকে আসাম আসার পথে লাইনচ্যুত হয় এই ট্রেনের ১১ টি বগি। এতে আলিপুরদুয়ার জেলার এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে এবং সাত জন আহত হয়েছেন।
No comments:
Post a Comment