কলকাতা, ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ০৩:৫০:০১ : আদালতকে সন্মান জানিয়ে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন যে তিনি চাকরি বাতিলের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে নিতে পারছেন না। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, " বিচার ব্যবস্থাকে সম্মান করি, তবে এই রায় মেনে নিতে পারছি না।"
মুখ্যমন্ত্রী আরও দাবী করেন, "যারা চাকরি করছেন তাদের কোনও টাকা ফেরত দিতে হবে না! তবে, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া ৩ মাসের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে।"
২০১৬ সালের এসএসসি শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় কলকাতা হাইকোর্টের রায় বহাল রেখেছে সুপ্রিম কোর্ট এবং পুরো প্যানেল বাতিল করেছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই এই ইস্যুতে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজ্য রাজনীতি। বিকেলে নবান্নে প্রশাসনিক বৈঠকের পর আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী সিপিএম আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন চৌধুরীরও তীব্র সমালোচনা করেন।
কটাক্ষ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "সবাই তো অযোগ্য নয়। দু-চারজনের জন্য এতগুলো চাকরি বাতিল করা হল। বিকাশবাবুর জন্য তো এটা হল। ওকে তো নোবেল দেওয়া উচিত। ভাবছি, আমরা রেকমেন্ড করব কিনা।"
এর পরে, রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান সিপিএম এবং বিজেপিকে একই বন্ধনীতে রেখে আক্রমণ করেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "স্কুলগুলোর কী হবে? তারা বাংলাকে আর কত টার্গেট করবে?"
কিছুক্ষণ বিরতির পর তিনি আরও বলেন, "ওরা এসব করে বাংলার শিক্ষার মান নামানোর চেষ্টা করছে না তো!"
নবান্নে এক সংবাদ সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, "আমি একটি রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে কথা বলছি। মধ্যপ্রদেশে ৫০ এর ওপর লোককে মেরে ফেলা হয়েছে। কী শাস্তি হয়েছে। আমাদের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীকে তো জেলে রেখেছেন। একজনের অপরাধে কজনকে শাস্তি দেবেন? তর্কের খাতিরে যদি ধরেও নিই, এর মধ্যে দু-চার জন রয়েছে। আর এসএসসি তো স্বশাসিত সংস্থা। আমরা এর মধ্যে ইনটারফেয়ার করি না।"
সম্প্রতি এক বিচারপতির বাড়ি থেকে টাকা উদ্ধারের পর তাকে বদলি করা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "যদি বিচারপতিকে বদলি করা হয়, তাহলে এই ক্ষেত্রেও শিক্ষকদের চাকরি না খেয়ে বাতিল করা যেত।"
চাকরিহারাদের উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "তারা একটি সমিতি গঠন করেছে। তারা শিক্ষামন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছে। আমরা ৭ এপ্রিল তাদের কথা শুনতে যাব।" যারা চাকরি হারিয়েছেন তাদের মমতা বলেন, "মানসিক চাপ নেবেন না। ধৈর্য ধরুন। সমস্যা অবশ্যই সমাধান হবে।"
"যারা চাকরি হারিয়েছেন তাদের অনেকেই ব্যাংক থেকে লোন নিয়েছেন। তাদেরও পরিবার আছে। এর ফলে লক্ষ লক্ষ পরিবারকে অচল করে দিল। এই পরিবারগুলির কোনও অঘটন ঘটলে সিপিএম-বিজেপিকে এর দায় নিতে হবে,"মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মনে করিয়ে দেন।
No comments:
Post a Comment